শিশু-কিশোর বয়সে অসুস্থতার প্রধান
একটি
উপসর্গ
হচ্ছে
বমি। বমি
কী?
পাকস্থলীর খাবার
যখন
জোরের
সঙ্গে
মুখ
দিয়ে
বেরিয়ে
আসে
তখন
'বমি
হওয়া'
বলা
হয়।
অনেকে
মুখ
দিয়ে
খানিক
দুধ
উঠে
আসাকে
বমি
বলে
মনে
করে
থাকেন,
এটা
মূলত
'রিগারজিটেশন' বা
খাদ্য
উঠে
আসা।
এটি
বমি
নয়।
এতে
কোনো
অস্বস্তি বা
কষ্ট
হয়
না-হঠাৎ পাকস্থলীর খাবার
এসে
মুখগহ্বর ভর্তি
হয়ে
যায়।
যেসব
শিশুর
পাকস্থলী ও
গলনালির মধ্যকার যে
ভাল্ব,
তা
দুর্বল
থাকে-তখন এভাবে পাকস্থলীতে থাকা
দুধ
বা
খাবার
গেলার
পরও
ওপরের
দিকে
উঠে
আসতে
পারে।
একই
রকমভাবে খাওয়ানোর পর
ওগরানো
বা
'রুমিনেশন'ও
বমি
নয়।
যেসব
শিশু
মানসিক
বিকাশে
পিছিয়ে
থাকে,
বিশেষত
নির্যাতিত শিশু,
তাদের
মধ্যে
এটি
বেশি
দেখা
যায়।
নবজাতক
শিশু
বহু
কারণে
বমি
করতে
পারে।
খাদ্যনালি, ডিওডেনাম-এসবের
জন্মত্রুটির কারণেও
বমি
হয়।
অনেক
মা,
শিশু
কম
খাচ্ছেন ভেবে
বোতলে-ফিডারে বেশি বেশি
ফর্মুলা খাওয়ান। এতেও
বমি
হতে
পারে।
গরুর
দুধ
ও
সয়া
প্রোটিন অ্যালার্জির কারণে
অনেক
শিশু
বমি
করে
থাকে।
শিশু
বয়সে
বমির
আরেকটি
বড়
কারণ
মূত্রতন্ত্রের ইনফেকশন। কিশোর
বয়সে
উদরাময়
রোগ,
ইউটিআইতে (মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ), টনসিলের প্রদাহ,
কান
পাকা
অসুখ
থেকেও
বমি
হতে
পারে।
যে
শিশুর
ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে
বমির
কোনো
সংযোগ
নেই
বলে
মনে
হয়,
তখন
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের রোগ
(যেমন
ব্রেইন
টিউমার),
মৃগী
রোগ,
মাইগ্রেন-শিরঃপীড়া, ডায়াবেটিস ইত্যাদি বলে
সন্দেহ
করা
হয়।
কিশোর
বয়সে
এ
ধরনের
সমস্যা
হলে
ইমোশনাল আপসেট
বা
ড্রাগে
আসক্তি
আছে
কি
না
তা
দেখতে
হবে।
এই
বয়সে
অ্যাপেনডিসাইটিস ও
পেপটিক
আলসার
থেকেও
বমিও
হতে
পারে।
বমিতে
পিত্তরস বা
রক্ত
থাকার
কথা
নয়।
যদি
দেখা
যায়
তবে
বিষয়টি
গুরুতর
হতে
পারে।
এ
ছাড়া
বমির
সঙ্গে
জ্বর,
ডায়রিয়া, অচেতন
হওয়া,
পেট
ব্যথা
ইত্যাদি থাকলেও
কিছু
পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে
পারে।
চিকিৎসা
* খাবার স্যালাইন দিতে
হবে।
না
খেতে
পারলে
বা
পানিশূন্যতা মেটাতে
না
পারলে
শিরায়
স্যালাইন সহযোগে
পানিস্বল্পতা নিবারণ
করতে
হবে।
* অল্প পরিমাণে বারবার
স্বাভাবিক খাবার
চালিয়ে
যেতে
হবে।
* বমি বন্ধের
ওষুধ
দেওয়া
যায়।
তবে
ফেনোথিয়াজিনস গ্রুপের ওষুধ
শিশু-কিশোরদের দেবেন না।
* বারবার বমি
হলে
সুনির্দিষ্ট ল্যাব
পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে
একং
কারণ
খুঁজে
তার
চিকিৎসা করতে
হবে।
বিভাগীয় প্রধান,
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ
