রবিবার, ১৭ মে, ২০১৫

দাম্পত্য জীবন স্থায়ী করার ছয়টি উপায়!!

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এটি যেন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার কোনো সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দাম্পত্য জীবন যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় এনিয়ে লোকজনের ভাবনাও আগে থেকে কমে যাচ্ছে।

তবে দাম্পত্য জীবন স্থায়ী করার গোপন ছয়টি উপায় রয়েছে। এগুলো অনুসরণ করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক অনেক বেশি মজবুত হয় ও দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়।
১.যথাযথ যোগাযোগ: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যথাযথ যোগাযোগ না হলে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবণা থাকে। এ কারণে কর্মস্থলে বা অন্যান্য জায়গায় যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন তার মধ্যেও অন্তত ১৫ মিনিট সময় করে নিজের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ।
২.যথাযথ সম্মান প্রদর্শন: ক্লিনিকাল মনোবজ্ঞানী সীমা হিঙ্গোরাণী বলেছেন, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর উভয়েরই উচিৎ একে অন্যকে যথাযথ সম্মান দেয়া। কেউ যাতে কারো পছন্দ বা অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ না করে। দম্পতিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন বৈবাহিক সম্পর্ককে গাঢ় করে।
৩. ছাড় দেয়ার মানসিকতা: অনেকে মনে করেন অন্যকে ছাড় দেয়ার অর্থ হচ্ছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা। এই মনে করে অনেকে নিজের স্ত্রী বা স্বামীকে কোনো বিষয়ে ছাড় দিতে চায় না। প্রত্যেক দম্পতির উচিৎ যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে উভয়েই একইসাথে মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া।
৪. আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা: পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্যে স্বামী-স্ত্রীর উচিৎ আলাদা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা। তবে এসব বিষয়ে একেবারে গোপনীয়তা করা মোটেও উচিৎ নয়। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই একে অপরকে জানাতে হবে।
৫. শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখা: শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে অব্যশ্যই উভয়ের ভাল সম্পর্ক থাকতে হবে। এজন্যে স্বামী তার শ্বশুর বাড়ির লোকদের মাঝে মধ্যে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে ভাল খাবারের আয়োজন করতে পারে। স্ত্রীরও উচিৎ সবসময় তার শ্বশুর বাড়ির লোকদের সাথে ভাল ব্যবহার করা।
৬. মাঝে মাঝে বেড়াতে যাওয়া: বিবাহ পরামর্শদাতা ড. বিজয় সাহা বলেছেন, স্বামীর উচিৎ স্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুভব করা। যদি সন্তান থাকে তাদের দাদা দাদীর কাছে রেখে মাঝে মাঝে বেড়াতে যাওয়া। তাহলে উভয়েরই মনমানসিকতা ভাল থাকবে।

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে বিবাহ বিচ্ছেদ অতিমাত্রায় বেড়ে চলেছে। এজন্য সব দম্পতি একটু সতর্ক হয়ে চললে এ অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।